মেনু নির্বাচন করুন

ইতিহাসের পাতায় সাতগ্রাম

কথিত আছে যে, মোঘল আমলে সোনার গাঁ এর স্বাধীন সুলতান গিয়াস উদ্দীন অযম শাহ মোঘল আক্রমন প্রতিহত করতে বর্তমানের আড়াইহাজারের কোন এক গোপন দূর্গে স্থায়ীভাবে আড়াই হাজার সৈন্য মোতায়েন রাখতেন। পরবর্তী সময়ে ১৯১০ইং সনের পর বৃহৎ রূপগঞ্জ থানা থেকে আলাদা হয়ে চলে আসার সময় সৈন্য মোতায়েন রাখার এ স্থানটিকেই থানা কার্যালয় হিসাবে বেছে নেওয়া হয়। সে থেকেই থানাটিকে আড়াইহাজার থানা নামকরণ করা হয়।


    আড়াইহাজার থানার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ০১ নং ইউনিয়ন-ই হলো সাতগ্রাম ইউনিয়ন ঃ যদিও ইউনিয়নটি থানার একেবারে সর্ব উত্তর প্রান্তে অবস্থিত। তথাপি উহার ভৌগলিক অবস্থানটা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা - সিলেট মহাসড়কটি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে এমনভাবে গিয়েছে যে, এখানকার প্রায় প্রত্যেকটি গ্রামই মহা সড়কের সাথে সংযুক্ত রয়েছে। ইহার পূর্ব উত্তর দিয়ে নরসিংদী জেলা এবং পশ্চিম দিকের উত্তর অংশও সে  নরসিংদী জেলার সীমানার সাথে সংযুক্ত কেবল পশ্চিমাংশের দক্ষিন দিকটা নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ সীমান সংযুক্ত রয়েছে।


    অতএব শুধু মাত্র দক্ষিনাংশ দিয়েই ইহা থানার দুপ্তারা ইউনিয়নের সাথে সংযুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের ম্যানচেষ্টার বাবুরহাটের সাথে একই সীমানায় ইহা পূর্বাংশ দিয়ে যুক্ত রয়েছে। কাজেই বাহির যোগাযোগ ইউনিয়ন বাসির জন্য খুবই সহজ ব্যাপার। বর্তমানে প্রবাহমান মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদীর মাঝামাঝি প্রায় সমান্তরাল অবস্থায় থেকে ব্রক্ষ্মপুত্র নদের যে শাখাটি একদিন বিশাল বক্ষে উত্তাল ছিল এবং যেখান থেকেই সে মদমত্ত ব্রম্মপুত্র ভরাট হবার পর যে জনপদ গড়ে উঠেছিল সাতগ্রাম ইউনিয়ন সে ভরাট জনপদেরই একটি খুদ্র অংশ বলা যায়।

    এ ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের মধ্যে সাতগ্রাম ছিল ব্রিটিশ আমলে একটি বর্ধিঞ্চু উচ্চ বর্ণের হিন্দু প্রধান গ্রাম। প্রথাম অবস্থায় ইউনিয় বোর্ড গঠনকালে এলাকার সমস্ত কর্তৃত্বই ছিল তাদের হাতে। এ গ্রাম থেকেই ১৯৩৫ সনে ডাঃ তারকেশ্বর গুপ্ত নামে প্রভাবশালী হিন্দু পরিবারের এক উচ্চ শিক্ষিত ভদ্রলোক ইউনিয়ন বোর্ডের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন এবং সে অবস্থা এটির নাম করণ করা হয় সাতগ্রাম ইউনিয়ন।